আঞ্চলিক পণ্য – আখের জুস পাউডার
লোকমুখে প্রচলিত আছে, চৈত্রের প্রখর খরতাপে কৃষক মাঠ থেকে কাজ শেষ করে ঘরে ফিরলে গৃহবধূ লাল চিনির শরবত করে দেন তাঁর ক্লান্ত স্বামীকে। সেই শরবত মুখে দিলেই রোদে পোড়া তাঁর বুকের কলিজাটা নিমেষেই জুড়িয়ে হিমশীতল হয়ে যায়, কেটে যায় তাবৎ ক্লান্তির রেশ। কেননা সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক, হাতে তৈরি, রাসায়নিকমুক্ত, স্বাস্থ্যসম্মত সুস্বাদু এই লাল চিনি। লাল চিনির শরবতের পুষ্টি গুণাগুণ মুহূর্তেই শরীর ও মনকে সতেজ এবং প্রফুল্ল করে তোলে।
শুধু লাল চিনির শরবত নয়, এটি দিয়ে মুড়ির মোয়া, পিঠা-পায়েস, চিড়ার নাড়ু, খিরসহ বাহারি মিষ্টিজাতীয় রান্নায় যুগ যুগ ধরে এই জনপদের মানুষের কাছে এই চিনি বেঁচে আছে গ্রামীণ ঐতিহ্য হিসেবে।
ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার কৃষকরা যুগ যুগ ধরে স্থানীয় আবহাওয়া ও মাটির সঙ্গে খাপ খাইয়ে তাদের উদ্ভাবিত প্রযুক্তির সাহায্যে আখ উৎপাদন এবং উৎপাদিত আখ থেকে লাল চিনি তৈরি করে আসছেন। এখানে কৃষক আমন ধান কাটার পর পৌষ-মাঘ-ফাল্গুন মাসে আখ থেকে লাল চিনি তৈরি করেন। আখ কেটে আখের মাথার বীজখন্ড মাটির গর্তে সংরক্ষণ করে ফাল্গুন মাসে ওই মাথার বীজখ- দিয়ে বীজতলায় রোপা আখের চারা তৈরি করেন। সেই চারা বৈশাখ মাসের প্রথম বৃষ্টিপাতের সময় মূল জমিতে রোপণ করেন। বৈশাখ মাস থেকে এই এলাকায় বেশ বৃষ্টিপাত হয়। তাই এমন আখ চাষে কোনো প্রকার সেচের প্রয়োজন হয় না। সারা দেশে আখ রোপণ থেকে শুরু করে আখ মাড়াই পর্যন্ত ১২ থেকে ১৪ মাস সময় লাগলেও এখানকার কৃষকরা তা ৯ মাসে সম্পন্ন করতে সক্ষম হন এটাই এই এলাকার কৃষকের কৃতিত্ব ও উদ্ভাবন। ‘করলে তৈরি লাল চিনির ক্ষীর, খাওয়ার জন্য পড়ে যায় ভিড়’ময়মনসিংহ জেলার ফুলবাড়িয়াতে এমন প্রবাদের প্রচলন রয়েছে। ফুলবাড়িয়া ঐতিহ্যবাহী হাতে তৈরি লাল চিনির জন্য বিখ্যাত। লাল চিনি দিয়ে বানানো পিঠা, নাড়ু, মোয়া, ক্ষীর, মিঠাই খেতে খুব সুস্বাদু। এ ছাড়া অনেক আয়ুর্বেদিক ওষুধ তৈরিতে লাল চিনি ব্যবহার করা হয়।
লাল চিনি তৈরির একমাত্র কাঁচামাল হলো আখ। আখের রস আগুনে জ্বাল দিয়ে লাল চিনি তৈরি করা হয়। আখ মাড়াইয়ের আগে চাষিরা লাল চিনি তৈরির জন্য জ্বালঘর তৈরি করেন। লাল চিনি তৈরির জন্য প্রথমে যন্ত্রচালিত আখ মাড়াইকলের সাহায্যে আখ থেকে রস বের করা হয়। জ্বালঘরের চুলায় ৭টি লোহার কড়াই বসানো হয়। তারপর প্রথম কড়াইয়ে পরিমাণ মতো কাঁচা রস দিয়ে জ্বাল দেওয়া শুরু করা হয়। জ্বাল দেওয়ার আধা ঘণ্টা পর ১ম কড়াই থেকে ২য় কড়াইয়ে, তারপর ৩য় কড়াইয়ে এভাবে ৭ম কড়াইয়ে জ্বাল দেওয়া রস নারিকেলের মালাইয়ের হাতা দিয়ে স্থানান্তর করা হয়। ৭ম কড়াইয়ের ঘন রস চুলা থেকে নামিয়ে কাঠের তৈরি মুগুর দিয়ে বারবার ঘর্ষণ করে অ-দানাদার বাদামি রঙের লাল চিনি তৈরি করা হয় এবং তা রোদে শুকিয়ে সংরক্ষণ করা হয়।
#আখেরশরবতপাউডার #আখেরজুসপাউডার #লালচিনি #ফুলবাড়িয়া #ময়মনসিংহ #গ্রামশপ #লোকালপয়েন্ট #আঞ্চলিকপণ্য #sugarcanejuicepowder #lalchini #fulbaria #mymenshingh #gramshop #localpoint